বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার পটভূমি


বাংলাদেশের বর্তমান আইন ও বিচার ব্যবস্থা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দু’শ বছরের বৃটিশ শাসনের কাছে বহুলাংশে ঋণী, যদিও এর কিছু কিছু উপাদান প্রাক-বৃটিশ আমলের হিন্দু এবং মুসলিম শাসন ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। এটি বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিকাশ লাভ করে। এ বিকাশের প্রক্রিয়াটি আংশিক স্বদেশী ও আংশিক বিদেশী এবং গঠন প্রণালী, আইনগত ধারণা ও নীতিমালার ক্ষেত্রে ইন্দো-মোঘল এবং বৃটিশ উভয় ব্যবস্থার সমন্বয়ে উদ্ভূত একটি মিশ্র আইনী ব্যবস্থা। ভারতীয় উপমহাদেশের বৃটিশ আমলের পূর্ববর্তী পাঁচশত বছরেরও বেশী মুসলিম ও হিন্দু শাসনের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। প্রত্যেকটি শাসনামলের নিজস্ব স্বতন্ত্র আইন ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।

প্রায় পনের’শ বছর আগে এবং খ্রীষ্টীয় যুগ আরম্ভ হওয়ার পরে হিন্দু আমলের বিস্তৃতি ঘটে। সে সময় প্রাচীন ভারতবর্ষ কতিপয় স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল এবং রাজা ছিলেন প্রত্যেকটি রাজ্যের সর্বময় কর্তা। বিচার ব্যবস্থা তথা ন্যায় বিচার প্রসঙ্গে রাজা ন্যায় বিচারের উৎস হিসেবে বিবেচিত হতেন এবং তাঁর রাজত্বে বিচার প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হতেন।

১১০০ খ্রীষ্টাব্দে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসকদের আক্রমণ ও বিজয়ের ফলে মুসলমান আমলের শুরু হয়। একাদশ শতাব্দীর শুরুতে এবং দ্বাদশ শতাব্দীর ক্রান্তিলগ্নে মুসলমান শাসকদের আক্রমণের মুখে হিন্দু রাজত্ব পর্যায়ক্রমে খন্ড বিখন্ড হতে শুরু করে। যখন মুসলমানরা সকল রাজ্য জয় করে, তখন তারা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কোরআনের উপর ভিত্তি করে তৈরি মতবাদও তাদের সঙ্গে করে এনেছিল। পবিত্র কোরআন অনুসারে সার্বভৌমত্ব সর্বশক্তিমান আল্লাহর হাতে ন্যস্ত এবং রাজা হচ্ছে পৃথিবীতে আল্লাহর ইচ্ছা ও আদেশ পালনকারী এক অনুগত দাস। শাসক ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহর পছন্দনীয় প্রতিনিধি এবং জিম্মাদার।

ইংরেজ আমলে বৃটিশ রাজকীয় সনদপ্রাপ্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কিছু কর্মকর্তা ভারতের প্রাচীন আইন ও বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ভার গ্রহণ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী পর্যায়ক্রমে বোম্বে, মাদ্রাজ এবং কলকাতার দখল গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, যা পরবর্তী সময়ে ‘প্রেসিডেন্সি টাউন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কোম্পানী বিচার প্রশাসনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিল। রাজা প্রথম জর্জ কর্তৃক ইস্যুকৃত ১৭২৬ সালের সনদ ভারতে ইংরেজ আইন ও বিচার ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাণিজ্যের জন্য অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে এ সনদের ত্রুটিসমূহ দূর করার লক্ষ্যে রাজা দ্বিতীয় জর্জ ১৭৫৩ সালে নতুন সনদ ইস্যু করেন। এ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য হাউজ অব কমনস- এর গোপনীয় কমিটি হস্তক্ষেপ করে এবং রেগুলেশন এ্যাক্ট, ১৭৭৩ পাশ করে, যার অধীন রাজা কলকাতায় বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্ট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭৭৪ সালে একটি পৃথক সনদ ইস্যু করে। পরবর্তী সময়ে ১৮০১ সালে মাদ্রাজে এবং ১৮২৪ সালে বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) সুপ্রীমকোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ভারতে ১৮৫৩ সালে প্রথম আইন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং একটি সর্ব ভারতীয় আইন সভা সৃষ্টি করা হয় যার প্রণীত আইন সকল আদালতের উপর কার্যকর ছিল। এ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বিলুপ্ত করা হয় এবং ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন তথা সিপাহী বিপ্লবের পর ১৮৫৮ সালেই ভারতের শাসনভার বৃটিশ রাজা কর্তৃক গ্রহণ করা হয়। দেওয়ানী কার্যবিধি আইন, ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন ইত্যাদি সেই সময় প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং সাধারণ আইনী কাঠামোয় বৃটিশ আইন সভা ১৮৬১ সালে ভারতীয় হাই কোর্ট আইন প্রণয়ন করে যার মাধ্যমে তিনটি প্রেসিডেন্সি শহরে (কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজ) প্রতিষ্ঠিত বিদ্যমান সুপ্রীমকোর্ট প্রতিস্থাপন করে হাইকোর্ট স্থাপন করা হয়। হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার পর দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতের একটি নিয়মিত ক্রমঅধিকারতন্ত্র দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এবং ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে । ভারতীয় উপ-মহাদেশের দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে বিদ্যমান বর্তমান ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি হচ্ছে এই দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এবং ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট বৃটিশ আইন সভা ভারত ও পাকিস্তানকে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭ এর বলে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে । এ আইন অনুসারে, স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তানের জন্য নতুন সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত এ দুই দেশের সরকার পরিচালিত হবে ভারত সরকার আইন, ১৯৩৫ এর মাধ্যমে। বিচার বিভাগের গঠন প্রণালী ১৯৪৭ সনের আগে যেরূপ ছিল প্রধানত তাই রয়ে গিয়েছে।

১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইন সরকারের গঠন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে দেয়। ফলে শাসন ব্যবস্থা একক বা কেন্দ্রীয় শাসন পদ্ধতি হতে ফেডারেল পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়। এ আইনের বিধি অনুসারে ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশেই নতুন সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেল আদালত চালু রাখা হয়।

পাকিস্তান গণপরিষদ ‘প্রিভি কাউন্সিল (অধিক্ষেত্র বাতিল) আইন, ১৯৫০’ পাশ করে যা পাকিস্তানের ফেডারেল আদালত হতে প্রিভি কাউন্সিলে আপীল দায়েরের ব্যবস্থাকে বাতিল করেছিল। ১৯৫৬ সালে নতুন সংবিধান প্রবর্তনের মাধ্যমে এর আওতায় প্রদেশসমূহে হাই কোর্ট এবং কেন্দ্রে পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ফেডারেল আদালত পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের এ সংবিধান ১৯৫৮ সালে বাতিল করা হয়েছিল এবং ১৯৬২ সালে নতুন আরেকটি সংবিধান চালু করা হয়, কিন্তু সমগ্র বিচার কাঠামো একই রয়ে যায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ একটি সংবিধান গ্রহণ করে যাতে আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রীম কোর্টের গঠন প্রণালী ও কার্যক্রম বর্ণনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের অধঃস্তন বিচার বিভাগ, দেওয়ানী ও ফৌজদারী ব্যবস্থা উভয়ের উৎপত্তি হয়েছিল দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এবং ফৌজদারী কার্যবিধি আইন ১৮৯৮ থেকে। এছাড়াও বাংলাদেশে আরো কতিপয় অন্যান্য বিশেষ আইন আছে, যা কিছু বিশেষ আদালতের ভিত্তিস্বরূপ কাজ করে, যেমন – শ্রম আদালত, শিশু অপরাধ আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি।

এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২


এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২

( ২০০২ সনের ২ নং আইন )
[১৭ মার্চ, ২০০২]

এসিড অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে বিধান করার লক্ষ্যে প্রণীত আইন৷

যেহেতু এসিড অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

সূচী

ধারাসমূহ

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা
২৷ সংজ্ঞা
৩৷ আইনের প্রাধান্য
৪৷ এসিড দ্বারা মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি
৫৷ এসিড দ্বারা আহত করার শাস্তি
৬৷ এসিড নিক্ষেপ করা বা নিক্ষেপের চেষ্টা করার শাস্তি
৭৷ অপরাধে সহায়তার শাস্তি
৮৷ মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির শাস্তি
৯৷ ক্ষতিগ্রস্তকে অর্থদণ্ডের অর্থ প্রদান
১০৷ অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি
১১৷ অপরাধের তদন্ত
১২৷ ক্ষেত্রবিশেষে আসামীকে সাক্ষী গণ্য করা
১৩৷ তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আলামত, সাক্ষ্য ইত্যাদি সংগ্রহে গাফিলতি
১৪৷ অপরাধের আমলযোগ্যতা, অ-আপোষযোগ্যতা ও অ-জামিনযোগ্যতা
১৫৷ জামিন সংক্রান্ত বিধান
১৬৷ বিচার পদ্ধতি
১৭৷ অভিযুক্ত শিশুর বিচার পদ্ধতি
১৮৷ আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার
১৯৷ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যে কোন স্থানে জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষমতা
২০৷ রাসায়নিক পরীক্ষক, রক্ত পরীক্ষক, ইত্যাদির সাক্ষ্য
২১৷ সাক্ষীর উপস্থিতি
২২৷ ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ, ইত্যাদি
২৩৷ এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল
২৪৷ অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি
২৫৷ অন্য আইনের অধীন সংঘটিত কতিপয় অপরাধের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এখ্‌তিয়ার
২৬৷ আপীল
২৭৷ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন
২৮৷ নিরাপত্তামূলক হেফাজত
২৯৷ মেডিক্যাল পরীক্ষা
৩০৷ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

পুরো আইন পড়ুন

আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯


আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯

( ১৯৮৯ সনের ১০ নং আইন )

[২৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৯]

আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷

যেহেতু আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সূচী

ধারাসমূহ

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
২৷ সংজ্ঞা
৩৷ লবণ কমিটি
৪৷ ভোজ্য লবণ আমদানী ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ
৫৷ লবণ গবেষণাগার
৬৷ ভোজ্য লবণ বিক্রয় সংক্রান্ত বিধিনষেধ
৭৷ ভোজ্য লবণ উত্পাদনকারীর নিবন্ধীকরণ
৮৷ পরিদর্শন
৯৷ শাস্তি
১০৷ কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
১১৷ অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
১২৷ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

সম্পূর্ণ আইন পড়ুন

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আইন, ১৯৯৫


আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন৷
 
যেহেতু আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
 
সূচী
ধারাসমূহ
   
১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রয়োগ
২৷ সংজ্ঞা
৩৷ আইনের প্রাধান্য
৪৷ আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
৫৷ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি
৬৷ অনুমোদিত মূলধন
৭৷ পরিশোধিত মূলধন
৮৷ পরিচালনা ও প্রশাসন
৯৷ বোর্ড
১০৷ চেয়ারম্যান
১১৷ ব্যবস্থাপনা পরিচালক
১২৷ পরিচালকের দায়িত্ব
১৩৷ পদত্যাগ
১৪৷ সভা
১৫৷ কমিটি
১৬৷ ব্যাংকের কার্যাবলী
১৭৷ বণ্ড এবং ঋণপত্র
১৮৷ হিসাব-নিকাশ
১৯৷ নিরীক্ষা
২০৷ প্রতিবেদন
২১৷ সংরক্ষিত তহবিল
২২৷ লভ্যাংশ বিলি-বণ্টন
২৩৷ কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ
২৪৷ ব্যাংকের পাওনা আদায়
২৫৷ ক্ষমতা অর্পণ
২৬৷ শাস্তি ইত্যাদি
২৭৷ অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
২৮৷ সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
২৯৷ আনুগত্য ও গোপনীয়তা
৩০৷ ব্যাংকের অবসায়ন
৩১৷ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৩২৷ প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
 
   
পুরো আইন পড়ুন