অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখল আইন, ১৯৮৮


( ১৯৮৮ সনের ২৬ নং আইন )

[২৪ মে, ১৯৮৮]

যেহেতু অবস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখলকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন ১৷ (১) এই আইন অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখল আইন, ১৯৮৮ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা ১৭ই কার্তিক, ১৩৯৪ বাং মোতাবেক ৪ঠা নভেম্বর, ১৯৮৭ ইং তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

সংজ্ঞা ২৷ বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “অস্থাবর সম্পত্তি” বলিতে যে কোন স্থলযান বা জলযান অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) “ডেপুটি কমিশনার” বলিতে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার এবং, এই অধ্যাদেশের দ্বারা বা অধীনে ডেপুটি কমিশনারকে প্রদত্ত কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা তাঁহার উপর অর্পিত কোন দায়িত্ব পালনের জন্য, ডেপুটি কমিশনারের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাঁহার অধীনস্থ অন্য কোন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(গ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(ঘ) “মালিক” বলিতে দখলদার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷

অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখল ৩৷ (১) কোন অস্থাবর সম্পত্তি সরকারী কাজে বা জনস্বার্থে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য আবশ্যক হইলে, ডেপুটি কমিশনার, লিখিত আদেশ দ্বারা, উক্ত সম্পত্তি হুকুমদখল করিতে পারিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রত্যেক আদেশ হুকুমদখলকৃত সম্পত্তির মালিককে ব্যক্তিগতভাবে প্রদান করিয়া জারী করিতে হইবে, তবে যদি উক্ত মালিক আদেশটি গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেন বা উক্ত মালিককে তাঁহার সর্বশেষ ঠিকানায় পাওয়া না যায় তাহা হইলে আদেশটি উক্ত মালিকের অধীনস্থ কোন কর্মচারী বা উক্ত মালিকের সহিত বসবাসরত তাঁহার পরিবারের কোন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে প্রদান করিয়া বা উক্ত মালিকের বাসগৃহ বা ব্যবসা বা কর্মস্থলের কোন প্রকাশ্য স্থানে আটিয়া দিয়া জারী করা যাইবে৷

ক্ষতিপূরণ ৪৷ কোন অস্থাবর সম্পত্তি এই আইনের অধীন হুকুমদখল করা হইলে, উক্ত সম্পত্তির মালিককে উহার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে এবং এই ক্ষতিপূরণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ণীত ও প্রদেয় হইবে৷

হুকুমদখলকৃত সম্পত্তির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ৫৷ এই আইনের অধীন কোন অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখলকৃত থাকাকালে উহার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডেপুটি কমিশনার দায়ী থাকিবেন এবং উক্ত সময়ে, সচরাচর ব্যবহারজনিত কারণ ছাড়া অন্য কোন কারণে, উক্ত সম্পত্তির ক্ষতি হইলে উহার জন্য উক্ত সম্পত্তির মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে এবং এই ক্ষতিপূরণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ণীত ও প্রদেয় হইবে৷

দণ্ড ৬৷ কোন ব্যক্তি এই আইন বা বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ লংঘন করিলে, বা লংঘনের চেষ্টা করিলে, বা উক্ত আদেশ কার্যকর করার ব্যাপারে কোন বাধা দান করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন৷

হুকুমদখল আদেশ কার্যকরকরণ ৭৷ এই আইনের অধীন প্রদত্ত আদেশ দ্বারা হুকুমদখলকৃত কোন অস্থাবর সম্পত্তির মালিক উক্ত আদেশ অনুযায়ী সম্পত্তির দখল বুঝাইয়া দিতে অস্বীকার করিলে, বা উক্ত মালিক বা অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির দখল গ্রহণের ব্যাপারে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিলে, ডেপুটি কমিশনার প্রয়োজনীয় বল প্রয়োগে উক্ত সম্পত্তির দখল গ্রহণ করিতে পারিবেন৷

দায়মুক্তি ৮৷ এই আইন বা বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কিছুর জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজাদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা চলিবে না৷

আদালতের এখতিয়ারহীনতা ৯৷ এই আইন বা বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ বা গৃহীত কোন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার মোকদ্দমা দায়ের বা আরজী পেশ করা যাইবে না; এবং কোন আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ বা ব্যবস্থা সম্পর্কে কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারী করিতে পারিবে না৷

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ১০৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

রহিতকরণ ও হেফাজত ১১৷ (১) অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখল অধ্যাদেশ, ১৯৮৭ (অধ্যাদেশ নং ১৮, ১৯৮৭) এতদ্বারা রহিত করা হইল৷

(২) অনুরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশ এর অধীন কৃত কোন কাজ কর্ম, গৃহীত কোন ব্যবস্থা বা কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত বলিয়া গণ্য হইবে৷

বাংলাভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭


( ১৯৮৭ সনের ২ নং আইন )[৮ মার্চ, ১৯৮৭]

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদের বিধানকে পূর্ণরূপে কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷

যেহেতু সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদের বিধানাবলী পূর্ণরূপে কার্যকর করিবার এবং তত্সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ১৷ (১) এই আইন বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা অবিলম্বে বলবত্ হইবে৷

সংজ্ঞা ২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে “অনুচ্ছেদ” অর্থে সংবিধানের অনুচ্ছেদ বুঝাইবে।

প্রবর্তন ও কার্যকরী ৩। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ৰেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হইবে। প্রবর্তন ও কার্যকরী ব্যবস্থা

(২) ৩(১) উপ-ধারায় উলেস্নখিত কোন কর্ম স্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন তাহা হইলে উহা বেআইনী ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) যদি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহা হইলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধির অধীনে অসদাচরণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহার বিরম্নদ্ধে সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ৪৷ সরকার সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন৷

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯


তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন।

যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; এবং

যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হইলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাইবে, দুর্নীতি হ্রাস পাইবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হইবে; এবং

যেহেতু সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সূচী

ধারাসমূহ

প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন৷
২৷ সংজ্ঞা৷
৩৷ আইনের প্রাধান্য
দ্বিতীয় অধ্যায়
তথ্য অধিকার, তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রাপ্তি
৪৷ তথ্য অধিকার৷
৫৷ তথ্য সংরক্ষণ৷
৬৷ তথ্য প্রকাশ৷
৭৷ কতিপয় তথ্য প্রকাশ বা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়৷
৮৷ তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ৷
৯৷ তথ্য প্রদান পদ্ধতি৷
তৃতীয় অধ্যায়
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
১০৷ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৷
চতুর্থ অধ্যায়
তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
১১৷ তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা৷
১২৷ তথ্য কমিশন গঠন৷
১৩৷ তথ্য কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলী৷
১৪৷ বাছাই কমিটি৷
১৫৷ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি৷
১৬৷ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের অপসারণ৷
১৭৷ তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধাদি৷
১৮৷ তথ্য কমিশনের সভা৷
পঞ্চম অধ্যায়
তথ্য কমিশনের আর্থিক বিষয়াদি
১৯৷ তথ্য কমিশন তহবিল৷
২০৷ বাজেট৷
২১৷ তথ্য কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা৷
২২৷ হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা৷
ষষ্ঠ অধ্যায়
তথ্য কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী
২৩৷ তথ্য কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী৷
সপ্তম অধ্যায়
আপীল, অভিযোগ, ইত্যাদি
২৪৷ আপীল, নিস্পত্তি ইত্যাদি৷
২৫৷ অভিযোগ দায়ের, নিস্পত্তি ইত্যাদি ৷
২৬৷ প্রতিনিধিত্ব৷
২৭৷ জরিমানা, ইত্যাদি৷
২৮৷ Limitation Act, 1908এর প্রয়োগ৷
২৯৷ মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা৷
অষ্টম অধ্যায়
বিবিধ
৩০৷ তথ্য কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন৷
৩১৷ সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ৷
৩২। কতিপয় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নহে
৩৩৷ বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা৷
৩৪৷ প্রবিধান প্রণয়ন ক্ষমতা৷
৩৫৷ অস্পষ্টতা দূরীকরণ৷
৩৬৷ ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ৷
৩৭। রহিতকরণ ও হেফাজত

বিস্তারিত– এখানে ক্লিক করুন